আন্তর্জাতিক

‘এই তো সবে শুরু, এখনও অনেক পথ চলা বাকি’ : সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

টানা ৩৬ দিনের অনশন, অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং সামনের সারিতে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির পর দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় দলটি। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বাড়ি ফিরেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও। রোববার ভোরটা অন্য ভোরের থেকে অনেকটাই আলাদা তার কাছে। ২৬ জুলাই ভোরে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় টানা আন্দোলনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন দীপকে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানান, অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন থেমে যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে যে কোনও ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আবারও গর্জে উঠবে তার কণ্ঠ।

ভিডিও বার্তায় ৩০ বছর বয়সী দীপকে বলেন, দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর অবশেষে কিছুটা বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর এমনভাবে ঘুমাতে পেরেছি, যখন পরবর্তী মুহূর্তে কী হবে বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে, তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না। অনেক দিন পর নিশ্চিন্তে ঘুম থেকে উঠেছি।’

তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের এই আন্দোলন ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে অবস্থান কর্মসূচি শেষ হওয়া মানেই আন্দোলনের সমাপ্তি নয়। তার কথায়, ‘এটা কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে সামনে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’

পুণে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান অভিজিৎ দীপকে। সে সময় তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। এরই মধ্যে ভারতের নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে গড়ে তোলা তার সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেশে ফিরে আসেন।

গত ৬ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। তবে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণার দিন দীপকের বক্তব্যে ছিল ভিন্ন আবহ। শান্ত ও সংযত কণ্ঠে তিনি বলেন, এই অর্জন তার বা কয়েকজন নেতার একার নয়; এর পেছনে রয়েছে ভারতের তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ।

তিনি আন্দোলনে পাশে থাকা সব বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানান।

তার মতে, যৌক্তিক সমালোচনা ও বিভিন্ন প্রশ্ন তাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

টানা আন্দোলনের কারণে নিজের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে বলে জানান দীপকে।

তিনি বলেন, শেষ কয়েক দিন জ্বর ও টাইফয়েডের মতো অসুস্থতার মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক আন্দোলনকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের জন্য তাদের অবদান তিনি সব সময় মনে রাখবেন।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন