আন্তর্জাতিক

ক্যানসার মামলায় ৫৫০ কোটি ডলার দিতে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন

ছবি: সংগৃহীত

ট্যালকযুক্ত বেবি পাউডার ব্যবহারে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার জেঅ্যান্ডজে জানায়, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে চলমান প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হবে। এসব মামলা দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে থাকা ট্যালক-সংক্রান্ত মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

তবে সমঝোতাটি কার্যকর করতে হলে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে থাকা মামলাগুলোর অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীর সম্মতি প্রয়োজন হবে।

ট্যালক একটি নরম খনিজ, যা একসময় প্রসাধনী ও বেবি পণ্য তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর এর ব্যবহার কমতে থাকে। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ট্যালককে ‘সম্ভাব্যভাবে মানবদেহের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।

তবে জেঅ্যান্ডজে বরাবরই দাবি করে আসছে, ট্যালক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যালকযুক্ত বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জেঅ্যান্ডজেকে। ট্যালক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের অভিযোগে এটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দেশটিতে প্রথম বড় ধরনের মামলা। যদিও পরের বছর ওই রায় বাতিল হয়ে যায়, এরপর জেঅ্যান্ডজের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

জেঅ্যান্ডজের মামলা পরিচালনা বিভাগের প্রধান এরিক হাস জানান, প্রস্তাবিত সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি বিরোধের অবসান ঘটাতে পারবে। বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও প্রায় এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর এই সমঝোতাকে ইতিবাচক সমাধান হিসেবে দেখছেন।

 

তবে প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের মামলাগুলো থাকছে না। সেখানে জেঅ্যান্ডজের বিরুদ্ধে দেশটির অন্যতম বড় পণ্য-দায়বদ্ধতার মামলা চলছে। এতে সম্ভাব্য বাদীর সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জেঅ্যান্ডজে তাদের ট্যালকযুক্ত পণ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি—বিশেষ করে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমার—বিষয়ে জানত। 

এরপরও প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে জেঅ্যান্ডজে এ অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন