আন্তর্জাতিক

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির যৌথ হামলা, নিহত ২০

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরাকে ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)।

বুধবার (২৯ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নির্দেশনায় মার্কিন সেনা ও সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, গেল ৭২ ঘণ্টায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে কয়েকটি অস্ত্র ও সরবরাহ কেন্দ্রে মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ইরানসমর্থিত মিলিশিয়ারা ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সোমবার ও মঙ্গলবার সৌদির পূর্বাঞ্চল এবং রিয়াদ এলাকায় তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আত্মরক্ষার অধিকার থেকেই সৌদি আরব পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরাকের পিএমএফ। সংগঠনটির দাবি, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভে, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে তাদের কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এ ঘটনাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং সংঘাতের বড় ধরনের বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানে থাকা মার্কিন বিমানঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির অভিযোগ, জাহাজগুলো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’ পথে চলাচল করছিল।

নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে বলে জানিয়েছিলেন। 

তবে সর্বশেষ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় কূটনৈতিক সমঝোতার সেই প্রচেষ্টা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন