আন্তর্জাতিক

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সপ্তাহান্তেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।

শনিবার (১ আগস্ট) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সোমবার বাজার খোলার আগেই অভিযান শেষ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরাইলকে অবহিত করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় চলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

অন্যদিকে, এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও তাদের কাছে হামলায় অংশ নেওয়ার কোনো অনুরোধ জানায়নি।

ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে, ‘আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’”

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে এবং ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগার এবং রাজধানী তেহরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত বৈঠকেই সম্ভাব্য নতুন হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে ট্রাম্প হামলা স্থগিত রেখে আবারও আলোচনার পথ বেছে নিতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান একটি ‘সমন্বিত প্রতিশোধ পরিকল্পনা’ প্রস্তুত করেছে।

তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য নতুন হামলা হবে অত্যন্ত বেপরোয়া পদক্ষেপ। এর জবাবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাব দেওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা—উভয়ই ইরানের রয়েছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন