এবার ফিফা প্রধানের বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংগঠকদের একজন তিনি। মাঠের খেলায় সরাসরি দেখা না গেলেও বিশ্বকাপের আয়োজন থেকে শুরু করে ফুটবলের বড় সিদ্ধান্ত—সবখানেই যার প্রভাব স্পষ্ট। সেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবার মাঠের বাইরের বিতর্কে নতুন করে আলোচনায়।
বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই তার বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উয়েফায় দায়িত্ব পালনের সময় সংস্থাটির এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে ইনফান্তিনোর কথিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ইনফান্তিনোর উয়েফা অধ্যায়ের শুরু ২০০০ সালে। প্রায় এক দশক পর, ২০০৯ সালে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক হন। ওই সময়েই এক নারী কর্মীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী উয়েফায় তুলনামূলকভাবে নিচের পদে কাজ করতেন। ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি সংস্থাটিতে বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
শুধু কর্মক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার অভিযোগেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়।
দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উয়েফা ছেড়ে যাওয়ার পরও ওই নারী সংস্থাটির কাছ থেকে কয়েক হাজার পাউন্ড অর্থ পেয়েছিলেন। এই অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোর সরাসরি ভূমিকা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইনফান্তিনোর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ওই নারীর পদোন্নতিও হয়েছিল। এমনকি উয়েফা থেকে পাওয়া অর্থের সহায়তায় তিনি এমবিএ কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি উয়েফার পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।
অভিযোগ সরাসরি নাকচ ইনফান্তিনোর
তবে পুরো অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছেন ইনফান্তিনো। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া বক্তব্যে তার একজন মুখপাত্র এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।
ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিফা সভাপতি অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণ, কোনো বিধি লঙ্ঘন কিংবা নিয়ম ভঙ্গের ইঙ্গিত দেওয়াকে মানহানিকর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তার পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, উয়েফা কিংবা ফিফায় দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো কর্মী ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি। তিনি কখনো এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের মালিকানা নিয়েও বিতর্ক
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আগে থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
ফিফার শীর্ষ পদে থাকা ইনফান্তিনোর জন্য তাই একদিকে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে উয়েফায় তার দায়িত্ব পালনের সময়কার কথিত সম্পর্ক ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন অভিযোগ—দুই দিক থেকেই তৈরি হয়েছে চাপ।
২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় উয়েফায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন ইনফান্তিনো। সেই সময়ের কর্মকাণ্ড ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগ এখন তার নেতৃত্ব ও অতীত ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট অস্বীকৃতি রয়েছে। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিতর্ক তৈরি হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই।
এসি//