ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
রংপুরের পীরগাছার নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় সাভার থানা ছাত্রদলের নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে তাদের রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক।
মৃত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে। বাবার চাকরির সূত্রে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন এবং সাভার থানা ছাত্রদলের সহ সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, রংপুরের পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মেয়ে মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে তাকে উদ্ধারে গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশ আরও জানান, অভিযান চলাকালে পুলিশ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিল। এসময় ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অভিযানের একপর্যায়ে মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অভিযানে জিডির বাদী শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাকে পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
ওসি সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর/আই