মগড়া নদীর ভাঙনের কবলে প্রাথমিক বিদ্যালয়, অনিশ্চয়তা শতাধিক শিক্ষার্থী
নেত্রকোনার মদনে মগড়া নদীর খরস্রোতের ভাঙনে নদীতে বিলীনের পথে বাগজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা ভবন। ইতোমধ্যে একটি শ্রেণী কক্ষ ও টয়লেট নদীগর্ভে চলে গেছে। যে কোন সময় বিলিন হয়ে যেতে পারে বিদ্যালয়টি। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রাথমিক পর্যায়ের লেখাপড়া।
বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান গ্রামে অবস্থিত।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের বাগজান সহ কুঠুরীকোনা, পাহাড়পুর ও পরশখিলা গ্রামের শিশুরা পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টিতে ১৭৭জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রাচীন এ বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষা নিয়ে অনেকে আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) বিদ্যালয়ে এলাকা সারা জমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষায় উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মগড়া নদীর পানি বাড়তেই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেও একটি টয়লেট ও বিদ্যালয়ের জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্না জড়িত কন্ঠে জানায় তাদের স্কুলটা নদীর স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে। তারা কোথায় পড়বে এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে।
রুবেল, আশরাফুল ও রাজিবসহ ওই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাভবকরা বলেন, বিদ্যালয়টি ভেঙে গেলে ছেলে-মেয়েরা ৩-৪ কিঃমিঃ দূরে হাওরের কাদা-পানি ভেঙে পড়তে যেতে হবে। ছোট বাচ্চাদের জন্য এটা অসম্ভব। সরকার যেন বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া নেই। ভাঙনে যেকোনো সময় পুরো ভবন নদী গর্ভে চলে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত।
মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, এটিইও সাহেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইউএনও স্যার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ডিসি স্যারকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, বিদ্যালয়ের ভাঙ্গনে বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হয়নি। খোঁজ খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, ইউএনও কে বলে দিচ্ছি। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আই/এ