নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ইরানি মুদ্রা
নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কায় ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। রোববার খোলা বাজারে প্রথমবারের মতো এক মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে খোলা বাজারে এক ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার। কয়েক দিনের ব্যবধানেই মুদ্রাটির মূল্য ৭ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথে নতুন প্রতিবন্ধকতার কারণে ইরানে ডলার ও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বেড়েছে। এতে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি রিয়ালের ওপরও চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
এর মধ্যেই ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো নতুন চুক্তি বা ছাড় ছাড়াই শেষ হয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির তেল বিক্রির জন্য দেওয়া ছাড়পত্র বাতিল করে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের জবাবে তেহরানও কঠোর অবস্থান নেয়।
ইরান ঘোষণা করে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার বিষয়টি কার্যকর থাকবে।
রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইরানের আমদানি ব্যয়ে। খাদ্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি ইরানি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দেশটির জনগণকে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি রিয়ালের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত এবং এর জবাবে তেহরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তার ওপর। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়লে রিয়ালের ওপর চাপ এবং ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসি//