আন্তর্জাতিক

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, কাদায় আটকা শত শত শ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৬০০ জনের বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক ও প্রকৌশলী রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন প্রকল্পের কাদায় ভরা ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা পড়েছেন।

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভয়াবহ বন্যায় দেশটির একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি নদীগুলোর প্রবল স্রোতে প্রকল্প এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি অনেক ভূগর্ভস্থ টানেল কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে ভরে গেছে।

আটকে পড়া শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের উদ্ধারে টানেলের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার একটি টানেলে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারী দলকে ফিরে আসতে হয়।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন স্থান থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক একটি উদ্ধারকারী দল অভিযান চালাচ্ছে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও এতে সহযোগিতা করছেন।

তবে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। তারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।

উদ্ধার অভিযানে থাকা অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানান, বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেলের অবস্থান শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ির চেয়েও বড় পাথর পড়ে আছে। এসব সরিয়ে টানেলে পৌঁছাতে খনন এবং প্রয়োজনে বিস্ফোরণের মতো জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হতে পারে।

এদিকে বন্যায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশের পরিচয় এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

চিটওয়ান জেলায় নদীর স্রোতে ভেসে আসা প্রায় ৩০০ মরদেহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো সাময়িকভাবে গণকবরের মতো ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে স্বজনদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন