দেশজুড়ে

সতিনকে ‘মা’ ডাকায় শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন মা

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল নামে ৮ বছরের আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর আকলিমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ এলাকার মুজিবনগর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে শাহীন মিয়া প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় পরে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরে জন্ম হয় আশরাফুলের।

আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। এ কারণে বেশির ভাগ সময় তাঁকে বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। আশরাফুলকে তখন শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তারই লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজন জানান, আশরাফুল নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

এ কারণে আকলিমা বেগমের মধ্যে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় কয়েকজন ধারণা করছেন। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকলিমা ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল না। ফলে শিশুটিকে হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সেই সন্তানকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছেন। শুধু আশরাফুল নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

ঘটনার পর আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুটির মা আকলিমা বেগমকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন