গাজায় ইসরাইলি হামলায় আরও ৩ ফিলিস্তিনি নিহত
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুর্শের ছেলেও রয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-জাহরা এলাকায় ইসরাইলি হামলায় মুনির আল-বুর্শের ছেলে বাসির আল-বুর্শ নিহত হন। একই দিনে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় শুজাইয়া এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরে আগে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত এক ফিলিস্তিনি কিশোরীও মারা গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে ইসরাইলি সামরিক যান থেকে থেমে থেমে গুলি চালানো হয়েছে। তবে এতে নতুন করে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আল-শাকুশ এলাকাতেও ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে এবং ড্রোন থেকে বোমা ফেলেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি ও এর সংলগ্ন রাফাহ এলাকায় ইসরাইলি হেলিকপ্টার থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইসরাইলি বাহিনীর হামলা ও অন্যান্য লঙ্ঘনে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৭৮৪ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে প্রায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। দীর্ঘ সংঘাতে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।