দেশজুড়ে

বাবার ফোনে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমিন,ধানখেত জুড়ে ধস্তাধস্তির চিহ্ন

বাসা থেকে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ৪ অক্টোবর বের হয়েছিল সপ্তম শ্রেনির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫)। গতকাল কুমিল্লায় লালমাই উপজেলার জগৎপুর মাইনি মুড়া জঙ্গল এলাকার ধানখেত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের রাতে মেয়ে মোবাইল ফোনে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান নিহতে বাবা।

তিনি বলেন, লোকেশনের পাশাপাশি তাজমিন মেসেজও পাঠিয়েছিল। তবে ঘুম থাকায় তিনি দেখতে পারেননি। পরদিন সেই লোকেশনে গিয়ে মেয়ের মৃতদেহ পান আবদুল আলীম।

গতকাল ভোরে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের ধানখেতজুড়ে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মৃতদেহের কিছুটা দূর থেকে একটি সিএনজি জব্দ করা হয়েছে।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করছেন।  কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস পরিবারের সাথে বসবাস করত তাজমিন।

এ ঘটনায় ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর তাজমিন তার বাসা থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়। পরে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। ওই রাতে মেয়েকে একাধিকার কল করেন তিনি।

তিনি বলেন, মেয়ে কল রিসিভ না করায় তাদের মধ্যে কথা হয়নি। বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তাজমিন মোবাইলে মেসেজ এবং লাইভ লোকেশন পাঠায়।

এদিকে  তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতে চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার  রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার হোটেল নূরজাহানে সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। বাসটি কক্সবাজার থেকে ফিরছিল। এরপর হোটেলের পাশের খাবার দোকান ও পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে। এ সময় দোকানিকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায় তাজমিনকে।

ওই ফুটেজ পুলিশ বিশ্লেষণ করছে বলে জানিয়েছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহটি অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন