সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবমে ভর্তি পরীক্ষা
সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় লটারি বহাল থাকছে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষায় বসতে হবে শিক্ষার্থীদের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়েছে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সারাদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা।
ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট শ্রেণির জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে প্রণয়ন করতে হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত রাখতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
নীতিমালায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
ঢাকা মহানগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর বিদ্যালয়গুলোর ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জানাবে।
এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সহোদর ও সহোদরাদের জন্য ৩ শতাংশ এবং জমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। এসব সংরক্ষিত আসনে উপযুক্ত আবেদনকারী না পাওয়া গেলে নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে আসন পূরণ করতে হবে। কোনও আসন শূন্য রাখা যাবে না।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বদলি হলে তাদের সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শ্রেণি শাখার মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
একাদশে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনাএকাদশে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভর্তির উপযুক্ত সন্তানদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণ করা হবে। কর্মরত বিদ্যালয়ে উপযুক্ত শ্রেণি না থাকলে নিকটবর্তী উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
আই/এ