ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অনুমোদন দিল পার্লামেন্ট
ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহেরদাদ আখলাকি কেতাবচিকে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। দায়িত্ব গ্রহণের পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালানো হলে এর জবাব হবে অপ্রত্যাশিত ও ব্যাপক।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে আখলাকির পক্ষে ২৩৭টি এবং বিপক্ষে ১৫টি ভোট পড়ে। মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে কোনো ভোট বাতিল হয়নি কিংবা কেউ ভোটদানে বিরত থাকেননি। ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তার নিয়োগের পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য শোনেন আইনপ্রণেতারা। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়।
আখলাকির নিয়োগের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অবসান ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন। এরপর মাজিদ এবন আল-রেজা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নিয়োগের ওপর ভোটাভুটির আগে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন আখলাকি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানে হামলা চালালে দেশটির জনগণ ও ইসলামি যোদ্ধারা এমন জবাব দেবেন, যা হবে অপ্রত্যাশিত ও ব্যাপক। এর ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিণতি তৈরি হবে, তার দায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আখলাকি আরও দাবি করেন, গত ৩৫ বছর ধরে তিনি শত্রুদের হত্যার তালিকায় রয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের ভাষায় ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’কে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধি, সামরিক গবেষণা জোরদার এবং বর্তমান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামোকে আরও কার্যকর করে তোলা।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আখলাকি। এর আগে দেশটির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান ছিলেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্র-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর আখলাকির কঠোর বার্তা তেহরানের প্রতিরক্ষানীতি ও সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এ্যাজেন্সী
এসি//