জাতীয়

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন মেয়ের সাথে শেষ কথা হয় বাবার

২০২৩ সালের মার্চ মাসে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে সৌদি আরব জানান টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সুইটি আক্তার। অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর সুইটিসহ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। তবে সুইটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বিকার করেছে তার পরিবার।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সুইটি আক্তারের বাড়িতে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তার বাবা মো. ফজল মিয়া ও মা জহুরা বেগম।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সুইটি আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এরপর পরিবারের চাপে আরেকজনকে বিয়ে করেন। কিন্তু সেই স্বামী সৌদি আরবে যাওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

এদিকে নিজের সন্তানের কথা চিন্তা করে ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার আসায় একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি যান সুইটি। যাওয়ার ৬ মাসের মাথায় তিনি গ্রেপ্তার হন।

সুইটি আক্তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবে তাঁর সঙ্গে কাজ করা অন্য নারীরা অবৈধভাবে একটি গাড়ি কিনেছেন। এ ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাবা মো. ফজল মিয়া জানান,  কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ আবার কোনো সময় এক মাস পর কথা হতো। এভাবে এক বছর চলার পর হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ এক বছর পর সুইটি আবার ফোনে যোগাযোগ করে। তখনো জেলে থাকার কথা বলেছিল। ফোন না দিলেও দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছিল। এভাবে প্রায় চার মাস চলে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের পর সুইটির সঙ্গে কথা হয়। তবে বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

সুইটির চাচাত বোন সালমা আক্তার জানান, সুইটি কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে না। তার চাচা মাটি কেটে জীবিকা নির্বাহ করেন। চাচার পাঁচ মেয়ে কোন ছেলে নাই। সুইটির এমন অবস্থা হবে জানলে তারা বিদেশ যেতে দিতেন না।

সুইটির লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন