বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উত্থান
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। টানা দরপতনের পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের দিকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) আগের লেনদেনে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর স্বর্ণের দাম ঘুরে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২০ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে শুক্রবার দাম কমে ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ বব হ্যাবারকর্ন বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি কম দামে স্বর্ণ কেনার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ফেডের সুদের হারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগপর্যন্ত প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের আশপাশে থাকতে পারে বলে ধারণা তাঁর।
এদিকে গত সপ্তাহে তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার তা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তেলের দামের এই পতনে ভূমিকা রেখেছে। জ্বালানি তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে। তবে সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন দেখা দিলে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন ফেডের সুদের হারের সিদ্ধান্তের দিকে। বুধবার এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর পর এবার তা অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিএমইর ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্ত স্বর্ণের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। চলতি সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত থাকলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডের পছন্দের এই সূচক থেকে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে নতুন ধারণা পেতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও নজরে রাখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনের ফলাফল দেশটির রাজস্বনীতি, শুল্ক, ভূরাজনৈতিক ব্যয় ও নীতিগত অনিশ্চয়তায় কী প্রভাব ফেলে, তা মূল্যায়ন করছেন তাঁরা। এসব বিষয়ের প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার, ডলারের দর এবং স্বর্ণের বাজারে। এমনটাই জানিয়েছে ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা।