আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে সমঝোতার চেষ্টা কাতারের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে কাতার। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি এড়াতেই এ আলোচনা হচ্ছে।

শনিবারও কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে। দুই পক্ষকে এমন কিছু পারস্পরিক পদক্ষেপে সম্মত পদক্ষেপ নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে দোহা, যেগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। 

এর মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরাসরি আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে।

এদিকে, এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের সমঝোতার পথে বড় দুটি বাধা রয়েছে। প্রথমত, ট্রাম্প প্রশাসন চায়, আলোচনায় ফেরার আগে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে হবে। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করতে হবে।

এই দুই শর্ত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে। এমন আশঙ্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানাচ্ছে।

তাদের আশঙ্কা, দুই দেশ আবার সামরিক সংঘাতে জড়ালে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ব্যাপক সংকট তৈরি হতে পারে।

কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ অবরোধ ও জব্দ করা অর্থ নিয়ে দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন