Bayanno Tv
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮
×

কোথাও বিপ্লব নেই, চেতনায় আছেন চে গুয়েভারা

  বায়ান্ন অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২১, ১৭:০৬

কোথাও বিপ্লব নেই, চেতনায় আছেন চে গুয়েভারা

কিংবদন্তী বিপ্লবী নেতা চে গুয়েভারার ৯৩তম জন্মদিন আজ। বিশ্বজুড়ে আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেনা বিপ্লবের অগ্নিপুরুষ হিসেবে নন্দিত তিনি। 

পেশায় চিকিৎসক হলেও একাধারে তিনি ছিলেন বিপ্লবী নেতা, লেখক, বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিবিদ ও সমরবিদ। চে গুয়েভারা বিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের অন্যতম।

রুশ বিপ্লবের মহান নায়ক লেনিনের চেয়েও যে নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে ভেসে ওঠে, তিনি চে গুয়েভারা। যিনি রোমান্টিক বিপ্লবী হিসেবে পরিচিত। দেশে দেশে গুয়েভারার ছবিখচিত টুপি আর টি-শার্ট পরে আজও ঘুরে বেড়ায় তরুণরা। ঘরে আজও চের ছবি টাঙায় তারা। একটা কথা প্রায়ই বলা হয়, যৌবনে অন্তত একবার চে’র মতো হতে চায়নি, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, যৌবন হলো সেই কাল, যখন মানুষ সাম্যের চেতনায় উজ্জীবিত, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না, যুদ্ধে যায়, বিপ্লব নিয়ে ঘরে ফেরে।

১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম চে’র। বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল সায়েন্সে পাস করার পরই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায়, পরে পাশের দেশ বলিভিয়া ও গুয়াতেমালায়।

১৯৫৫ সালের কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে মেক্সিকোতে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো আর তাঁর ভাই রাউলের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় তার। চে যুক্ত হয়ে যান কিউবার স্বৈরশাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সর্বাত্মক যুদ্ধ ও সংগ্রামে। কাস্ত্রোর সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন ও গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৫৯ সালে সফল বিপ্লবের পর কাস্ত্রো সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন চে। কিউবার ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

কিউবায় সম্মানের সঙ্গে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে বাকি জীবন নির্ঝঞ্ঝাট কাটিয়ে দিতে পারতেন চে। কিন্তু মানুষের মুক্তির জন্য বিশ্বব্যাপী একটি অখণ্ড কমিউনিস্ট ব্যবস্থা নির্মাণের ডাক শুনেছিলেন মহান এই বিপ্লবী। লেনিনবাদ তাঁকে শিখিয়েছে, কমিউনিস্ট ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত না হিলে এ ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। তাই বিপ্লব সংগঠিত করার জন্য কিউবা থেকে মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো পরে বলিভিয়ায় চলে যান তিনি। কিউবাতে রেখে যান স্ত্রী হিল্ডা ও পাঁচ সন্তানকে।

কিউবায় ফিদেলের সঙ্গে সফল বিপ্লবের পর আরেকটি বিপ্লবের প্রত্যয় নিয়ে বলিভিয়ায় যান গুয়েভারা। বলিভিয়ার গহীন অরণ্যে সহযোদ্ধাদের নিয়ে আস্তানা গাড়েন সিআইএর মদদপুষ্ট বলিভিয়ান সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে। তবে সেখানে মার্কিন গোয়েন্দাদের মদদপুষ্ট বলিভিয়ান বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে যান তিনি।

গুলি করতে উদ্যত সেনাকে চিৎকার করে চে বলেন, আমি চে গুয়েভারা। দাঁড়াও! গুলি কোরো না! তোমাদের কাছে মৃত চে’র চেয়ে জীবিত চে অনেক বেশি মূল্যবান। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে এক তাকে তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি তোমার অমরত্বের কথা ভাবছ? উত্তরে চে বললেন, না। আমি বিপ্লবের অমরত্বের কথা ভাবছি। এখানেই চের বিশেষত্ব।

চে মনে করতেন, বিপ্লবীকে হত্যা করা যায় কিন্তু বিপ্লবকে কখনো নয়। বিপ্লবীকে হত্যা করলেও বিপ্লবের সুফল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঠিকই থেকে যায়। মানব মুক্তির লড়াই শুরু করেন এই বিপ্লবী নেতা। তবে ১৯৬৭ সালের নয় অক্টোবর বলিভিয়ার লা হিগুয়েরাতে মহান এই বিপ্লবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে মানবতার শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসররা। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে অবসান ঘটে চে‘র বর্ণাঢ্য জীবনের!

পুরো বিশ্বের মুক্তিকামী সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হন চে গুয়েভারা।

 

এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ আশিক রহমান
বেঙ্গল টেলিভিশন লিমিটেড

৪৩৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।