গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা, চোখেমুখে আনন্দঅশ্রু

ইসরাইলের আরও ছয় জিম্মিকে মুক্তির বিষয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস নিশ্চয়তা দেওয়ার পরই গাজার উত্তরাঞ্চলে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। হামাস ওই ছয় ইসরাইলিকে মুক্তির বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়ার পরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ফেরার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইসরাইলের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরাইলের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। ইসরাইলের হামলায় গাজার প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছোট্ট এই ভূখণ্ডের প্রায় সব মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে চাইছেন। এ জন্য তাঁদের নেৎজারিম করিডর পার হয়ে আসতে হয়। তবে হামাস ওই ছয় জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়ায় ইসরাইল সেখানে উপকূলীয় একটি মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামাস পথে ফিরে এসেছে এবং এই বৃহস্পতিবার আরও এক দফায় জিম্মিদের মুক্তি দেবে। সোমবার থেকে ফিলিস্তিনিরা উত্তর গাজায় প্রবেশ করতে পারবেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে ওই বিৃবতির পরই নেৎজারিম করিডোরের কাছে অপেক্ষায় থাকা হাজারো ফিলিস্তিনি আনন্দে ফেটে পড়েন। তাদের চোখেমুখে আনন্দঅশ্রু। এসব ফিলিস্তিনিদের অনেকেই এরইমধ্যে করিডোর অতিক্রম করেছেন।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এই মুহূর্তটিকে ‘ঐতিহাসিক’বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মতোই আজকের দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। এটিও তাদের জন্য একটি বিজয়ের দিন।
উত্তর গাজায় ফিরে আসা বাস্তুচ্যুত এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি ‘বিজয়ের দিন। আমি আমার ঘর পুনর্নির্মাণ শুরু করব। আমরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আবার নতুন করে তৈরি করব।’
এমআর//