ব্যবসায়িদের ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্ভব হলে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক বি১ ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠককালে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া গাজায় প্রস্তাবিত মোতায়েনযোগ্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান।
অ্যালিসন হুকার বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভিসা বন্ডের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। এছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় দেশটিতে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বন্ড–সংক্রান্ত বর্তমান শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এ ছাড়া তিনি অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র যে রোহিঙ্গাদের জন্য সর্ববৃহৎ দাতা—এটি স্বীকার করে তিনি তাদের জন্য মার্কিন সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
অ্যালিসন হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে উল্লেখযোগ্য বোঝা বহন করে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গারা যত দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবে, তত দিন তাদের জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিষয়।
আই/এ