দেশজুড়ে

সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইটবোঝাই একটি ট্রাকের অতিরিক্ত ভারে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা।

 মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে একটি ইটবোঝাই ট্রাক সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় দুধকুমার নদের ওপর অবস্থিত সোনাহাট সেতুর স্টিল অংশে উঠলে এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,  কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটির ধারণক্ষমতা ১০ টন হলেও ট্রাকটিতে ৩৯ টন মালামাল বহন করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রাক মালিক ও ইট ক্রয়কারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ট্রাকটি দেবে যাওয়ার পর সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। জরুরি প্রয়োজনে লোকজন নৌকায় নদী পারাপার করছেন।

সোনাহাটে একটি ব্যাংকে কর্মরত মনির নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিনের মতো আজও সময়মতো বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম। এসে দেখি ট্রাকে অতিরিক্ত লোডের কারণে সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে। বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হয়েছি।

গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, জবেদ আলী ও মজিবর জানান, মঙ্গলবার ভূরুঙ্গামারীতে সাপ্তাহিক গরুর হাট বসে। সকাল আটটার মধ্যে হাটে পৌঁছাতে পারলে ভালো জায়গা পাওয়া যায়। তারা একটি ভটভটিতে আটটি গরু নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেতু বন্ধ থাকায় নৌকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সময়মতো হাটে পৌঁছাতে না পারলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। এর অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতুটি নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারীর চরভূরুঙ্গামারী, বঙ্গসোনাহাট, বলদিয়া, তিলাই ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নের একাংশসহ নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা, কেদার, বল্লভেরখাস ও মাদারগঞ্জ ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনঃরায় চালু করা হয়।

দীর্ঘদিনের পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে আসছে বিভিন্ন যানবাহন।মাঝেমধ্যেই সেতুর পাটাতন দেবে যাওয়া ও ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলেও জীবিকার তাগিদে মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে সেতুটি নিয়ে স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওভারলোডের কারণে সাধারণত মামলা হয় না, তবে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।

 

 আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন