অভিবাসন অভিযানে আবারও মার্কিন নাগরিক নিহত, বিক্ষোভে উত্তাল শহর
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন দমন অভিযানের সময় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মিনিয়াপোলিসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদকারীরা ভারী অস্ত্রধারী ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় শনিবার ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান। মিনিয়াপোলিস পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা নিশ্চিত করেছেন, নিহত ব্যক্তি শহরের বাসিন্দা এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, নিহতের নাম অ্যালেক্স প্রেটি। তিনি একজন আইসিইউ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ড এমন সময় ঘটল, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইসহ অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এর আগে, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে রেনে গুড নামের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই শহরজুড়ে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছে। গেল সপ্তাহে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে একজন ভেনেজুয়েলান নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ এই ঘটনাকে ‘শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগ নয়, বরং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত নিষ্ঠুর অভিযান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সেন্ট পল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আজ সেই অভিযান আরও একটি প্রাণ কেড়ে নিল।’ গভর্নর জানান, ঘটনার তদন্ত রাজ্য সরকার নিজেই করবে।
অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রধারী এক ব্যক্তিকে নিরস্ত করার সময় তিনি তীব্র প্রতিরোধ করেন, ফলে এক সীমান্ত টহল কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভর্নর ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি একটি পোস্টে উদ্ধার করা অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘এগুলো কী? স্থানীয় পুলিশ কোথায় ছিল? কেন আইসিই কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়নি?’
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ‘এই ডেমোক্র্যাট গভর্নর আর মেয়র তাদের বিপজ্জনক বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছেন।’
এমএ//