অন্ধকারে নিমজ্জিত গ্রিনল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার মধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে গ্রিনল্যান্ড। তীব্র ঝড়ো বাতাসের প্রভাবে সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়ায় দেশটির রাজধানী নুউক শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
গ্রিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে শক্তিশালী বাতাসের আঘাতে প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘বুকসেফজোর্ড’-এর সঞ্চালন লাইনে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো নুউক শহর অন্ধকারে ডুবে যায়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ ও ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হলে রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোরের মধ্যে শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট এমন এক সময়ে ঘটল যখন গ্রিনল্যান্ড সরকার সম্প্রতি সাধারণ মানুষের জন্য একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় নাগরিকদের অন্তত পাঁচ দিনের জন্য পর্যাপ্ত পানি, খাবার, ওষুধ এবং গরম কাপড় মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সরকার বলছে এটি একটি সাধারণ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাগরিকরা একে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং মালিকানা দাবি নিয়ে দ্বীপটি বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। যদিও দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় হয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি শক্তি প্রয়োগের পথ পরিহার করেছেন এবং ন্যাটোর সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা নিয়ে কাজ করছেন।
তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং ট্রাম্পের তথাকথিত সমঝোতার বিষয়ে তারা এখনো অন্ধকারে রয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা