প্রবল তুষারপাত ও হিমবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎহীন ১০ লাখ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতকালীন ঝড়ের আঘাতে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রবল তুষারপাত, বরফ ও হিমবৃষ্টির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি পরিবারের। একই সঙ্গে বাতিল হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট, বন্ধ রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। ঝড়ের প্রভাবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তুষার, বরফ ও হিমবৃষ্টির কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। লুইজিয়ানায় অন্তত দুজন হাইপোথারমিয়ায় মারা গেছেন এবং টেক্সাসে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে এক কোটির বেশি মানুষ সরাসরি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানায়, দেশজুড়ে ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক—প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই দুর্যোগের প্রভাব অনুভব করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বরফ জমে যাওয়াই পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক করে তুলছে। এতে গাছ ভেঙে পড়ছে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাচ্ছে এবং সড়ক মারাত্মকভাবে পিচ্ছিল হয়ে উঠছে। ভার্জিনিয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টি গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কেন্টাকির গভর্নর জানিয়েছেন, বরফ জমার কারণে রাজ্যের সড়ক পরিস্থিতি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জানিয়েছেন, গত শনিবার শহরটিতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতার কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুর্যোগ সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট জরুরি ভোট কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
ডাকোটা ও মিনেসোটার মতো উত্তরের রাজ্যগুলোতে মানুষ তীব্র শীতের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে অভ্যস্ত হলেও টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও টেনেসির মতো অঞ্চলে এমন ঠান্ডা বিরল ঘটনা। এসব এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে টেনেসির ন্যাশভিল ও আশপাশের এলাকায় ন্যাশভিল ইলেকট্রিক সার্ভিস জানিয়েছে, দুই লাখের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্যাট্রিক শিহান সতর্ক করে বলেছেন, বরফ জমে সড়ক নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো—দুটিই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এসি//