আন্তর্জাতিক

চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে ডলার

মার্কিন ডলারের দরপতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ না করে বরং এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে ডলার আরও দুর্বল হয়ে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা ডলার থেকে সরে গিয়ে স্বর্ণ ও সুইস ফ্রাঁকের মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডলারের দুর্বলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি এটা ভালোই হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা দেখুন, ডলার দারুণ অবস্থায় আছে।” তার এই মন্তব্যের পরই ডলার সূচক একদিনে ১.৩ শতাংশ কমে যায়। বুধবার সকালে আরও ০.২ শতাংশ দরপতন হয়। 

গেল এক বছরে ডলারের মান প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। মঙ্গলবারের পতন ছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় একদিনের দরপতন। বর্তমানে ডলার ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত নীতিগত অবস্থান—গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণার মতো বিষয়গুলো নতুন ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা ডলারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

ইন্টার‌অ্যাকটিভ ব্রোকার্সের বাজার বিশ্লেষক স্টিভ সসনিক বলেন, দুর্বল ডলার একদিকে রপ্তানিকারকদের জন্য লাভজনক হলেও অন্যদিকে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডলারের দুর্বলতার সুযোগে অন্য মুদ্রাগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সুইস ফ্রাঁক ডলারের বিপরীতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে ফ্রাঁক ১৪ শতাংশ বেড়েছে, আর চলতি বছরেই তা আরও ৩ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে এটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখছেন।

ইউরোও ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে। গত সপ্তাহে ইউরোর দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।

এদিকে স্বর্ণের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯১ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের কিছু বেশি সময়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভের ওপর রাজনৈতিক চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ডলারের দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে। বুধবার ফেড তাদের চলতি বছরের প্রথম সুদহার সিদ্ধান্ত জানাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প সুদ কমানোর আহ্বান জানালেও ফেড সুদ অপরিবর্তিত রাখবে।

এদিকে, ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমালোচনার পর মার্কিন বিচার বিভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদরদপ্তর সংস্কার প্রকল্প ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে মে মাসে, আর সুদহার ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প তার উত্তরসূরি ঘোষণা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন