আগুনে পুড়ে ছাই মাদ্রাসা ও এতিমখানা, বেঁচে গেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য পাশের মসজিদে অবস্থান করায় মাদরাসার ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে নোহাটা দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই টিনশেড ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ন্ত্রণের আগেই পুরো প্রতিষ্ঠানটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষ, রান্নাঘর, পাঠদানের বিভিন্ন সরঞ্জাম, বইপত্র, বিছানা ও পোশাকসহ নগদ অর্থ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি মাদরাসার অধ্যক্ষের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আগুনে পুড়ে যায়।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত ৩৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই পাশের একটি মসজিদে জুম্মার নামাজে অংশ নিচ্ছিলেন। মাদরাসা থেকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা তাফসিরুল ইসলাম হাবিবী বলেন, “আমরা জুম্মার নামাজ শেষে হঠাৎ মাদরাসায় আগুন লাগার খবর পাই। ঘটনাস্থলে এসে দেখি পুরো মাদরাসা দাউদাউ করে জ্বলছে। কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে আল্লাহর রহমতে ভেতরে কেউ না থাকায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।”
খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. শামছুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে শিক্ষার্থীদের পোশাক-আশাক, থাকার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম সংকটে পড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও দৈনন্দিন খাবার ব্যবস্থাপনায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ও পড়াশোনা আবার শুরু করতে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
এসি//