এপস্টেইন নথি প্রকাশ
রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিল গেটস
যুক্তরাষ্ট্রে জেফরি এপস্টেইনের ঘনঘোর কেলেঙ্কারির পর্দা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। বিচার বিভাগ সাম্প্রতিকভাবে প্রকাশ করেছে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি নথি, যা মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ঝড় তোলেছে। নথি প্রকাশের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম, যা তার ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, শুক্রবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি, প্রায় ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরেও কিছু নথি প্রকাশিত হয়েছিল, তবে এক হাজারের বেশি ভুক্তভোগীর পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে বাকি অংশ প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নতুন প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে আছে জেফরি এপস্টেইনের লেখা বলে ধারণা করা কিছু খসড়া ইমেইল, যেখানে বিল গেটসকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, গেটস কথিতভাবে ‘রুশ মেয়েদের’ সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হন এবং বিষয়টি তার তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের কাছ থেকে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। এসব তথ্য এপস্টেইন লিখেছিলেন গেটসের দীর্ঘদিনের বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিচের পক্ষ থেকে তৈরি একটি খসড়া বিবৃতিতে।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নিকোলিচকে গেটসের যৌন সম্পর্কজনিত জটিলতা সামলাতে সহায়তা করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যার মধ্যে ওষুধ সংগ্রহ ও বিভিন্ন গোপন সাক্ষাতের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি ব্রিজ টুর্নামেন্টের জন্য ‘অ্যাডারাল’ নামক ওষুধ সরবরাহের কথাও খসড়া নথিতে রয়েছে। অন্য একটি ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেছেন, গেটস নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য মেলিন্ডাকে অজান্তেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে নিকোলিচের সহায়তা চান। নথিতে সতর্ক করা হয়েছিল, মেলিন্ডা যদি প্রকাশ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন, তবে গেটস দম্পতির দাতব্য কার্যক্রম বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
নথিতে আরও দাবি করা হয়, ২০১৭ সালে রুশ ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভোর সঙ্গে গেটসের কথিত সম্পর্ক প্রকাশ করার হুমকি দিয়েছিলেন এপস্টেইন। ধারণা করা হয়, এপস্টেইনের একটি চ্যারিটেবল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে গেটস অস্বীকার করলে এই হুমকি দেওয়া হয়।
তবে বিল গেটসের মুখপাত্র এসব অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “এই নথিগুলো এপস্টেইনের হতাশা ও কাউকে ফাঁদে ফেলা বা মানহানি করার ক্ষমতারই প্রমাণ। এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিল ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস বিবাহিত ছিলেন। মেলিন্ডা আগেই জানিয়েছিলেন, গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ তাদের বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ ছিল। অন্যদিকে, জেফরি এপস্টেইন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মৃত্যু হয়।
এসি//