পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ১৯৭ সন্ত্রাসী নিহত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে জঙ্গিবিরোধী এক ব্যাপক অভিযানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত ভারত-সমর্থিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১৯৭ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। প্রদেশজুড়ে ১২টি শহরে সমন্বিত হামলার পর টানা তিন দিন ধরে এই অভিযান চালানো হয়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানায়। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানের সময় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ২২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিযানে প্রায় এক ডজন স্থানে একযোগে হামলা চালায়। এতে ১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কোয়েটা, মস্তুং, নুশ্কি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গওয়াদর ও পাশনি। এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশে চালানো দুটি পৃথক অভিযানে প্রথম দফায় ৪১ জন বিদ্রোহী নিহত হয়। এরপর এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের সন্ত্রাসীরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ ১৮ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জনজীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
এরপর নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে আরও ৯২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল। তবে তীব্র সংঘর্ষে ১৫ জন সেনা সদস্যও নিহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী প্রভাবিত এলাকাগুলোতে ‘স্যানিটাইজেশন অপারেশন’ শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল হামলার পরিকল্পনাকারী, বাস্তবায়নকারী, সহযোগী ও আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এসব হামলা দেশের বাইরে অবস্থানরত সন্ত্রাসী নেতাদের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে। হামলার সময় তারা সরাসরি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল বলে দাবি করা হয়।
এমএ//