পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর গুলিতে একদিনে নিহত ২০
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচন বয়কটের ডাক দেওয়া চলমান আন্দোলনে গুলি চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২০ জন কাশ্মীরি নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৮০ জন নিহত হল।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাওয়ালকোটের ‘ড্রেইক এইটথ’ (Dreik Eighth) এলাকায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে পাকিস্তানি বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে।
বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ২০ জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উসমান নাজির—যিনি নির্বাচন বর্জনকারী ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-র কোর কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র উমর নাজির কাশ্মীরির ভাই। মূলত এ সংগঠনই নির্বাচন বর্জনের চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, নিরাপত্তাবাহিনী ভিড়ের ওপর গুলি চালালে রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার আকিল ভাই এক ভিডিও বার্তায় বলেন, "বন্ধুরা, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রাওয়ালাকোট এখন মৃতদেহ ও আহতে পরিপূর্ণ। ঈশ্বরের দোহাই, এই মুহূর্তে আমাদের পাশে দাঁড়ান; দয়া করে আমাদের পাশে দাঁড়ান,"
তিনি বলেন, "আমি কোনোমতে প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরেছি। নিজের বেঁচে থাকা নিয়ে আমার আর কোনো মাথাব্যথা নেই—এত এত ভাইকে শহীদ হতে দেখার পর। আমি এখানে আপনাদের কাছে হাতজোড় করে মিনতি জানাতে এসেছি। দয়া করে বিবেকের পরিচয় দিন; আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যারা দেখছেন, দয়া করে আমাদের সমর্থন করুন। আমরা শান্তিকামী মানুষ। অসংখ্য মৃতদেহ, অসংখ্য আহত মানুষ। মৃতদেহ বহন করতে করতে আমাদের কাঁধ আজ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।"
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী মূলত ‘আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (এএসি)-র সদস্যদের টার্গেট করেছে; এই কমিটিই ওই অঞ্চলে চলমান তথাকথিত আইনসভার নির্বাচন বয়কটের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সোমবার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ ওই অঞ্চলে ১৪ হাজারেরও বেশি সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মী পাঠিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্নাইপার মোতায়েন করা হয়েছে; পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাজা গুলি ও দূরপাল্লার কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
কয়েক দশক আগে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আসা শরণার্থীদের জন্য স্থানীয় আইনসভায় বরাদ্দ ১২টি আসন বাতিলের দাবিতে জনগণকে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছে জেএএসি। এর জবাবে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে।
আইনসভার ৫৩টি আসনের মধ্যে সংরক্ষিত এই ১২ আসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্চলে বিতর্ক চলে আসছে। এই আইনসভার ৩৩টি আসনে সরাসরি ভোট হয়। আটটি আসন নারী ও অন্যদের জন্য সংরক্ষিত।
আই/এ