ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা
সন্ধ্যার মধ্যে সিদ্ধান্ত বদল না হলে ইসি ঘেরাও করবে এনসিপি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, আজ সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আগামীকাল নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও করা হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা–১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এর আগে রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি কেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যেও ফোন বহন নিষিদ্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন কী ভিত্তিতে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তা স্পষ্ট নয়। কার নির্দেশনায় কমিশন কাজ করছে, সেটি জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সন্ধ্যার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন—অন্যথায় ইসি কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ঠিক আগে ভোট কারচুপি ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার ও তথ্য পাওয়ার সুযোগ খর্ব করার মতো কোনো আইন মেনে নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের পরিকল্পনা থাকলে তার পরিণতি ভালো হবে না। অতীতের নির্বাচন কমিশনের পরিণতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, তারা যেন নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেন। গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান রেখে নির্বাচন পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও অন্য জোটের বিজ্ঞাপন নেওয়া হচ্ছে না, যা নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। প্রয়োজন হলে তারাও বিজ্ঞাপন দিতে প্রস্তুত—এমন মন্তব্য করে তিনি সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গত ১৬ বছরে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। দাবি করেন, অতীতে অনিরপেক্ষ আচরণের মাধ্যমে ভোটাধিকার হরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। এবারও একই প্রবণতা দেখা গেলে জনগণ তার জবাব দেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন তরুণ সমাজ কেন্দ্রে অবস্থান নেবে এবং অনিয়মের চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে। মোহাম্মদপুরবাসীকে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয় নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
এসি//