দেশজুড়ে

ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ, অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী বহিস্কার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। তাদের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি অফিস ভাঙচুরের একাধিক ঘটনাও ঘটছে

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থন ও তার পক্ষে নির্বচনী প্রচারণা করায় আটপাড়া ও কেন্দুয়ায় ৫৭জনের মতো বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীকে বহিস্কার করা হয়েছে। ভোটের সময় যতই এগিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত হচ্ছে। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে এ আসনটিই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ আসনে আলাদা দৃষ্টি রেখছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত তারা। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬জন প্রার্থী। তবে মূল লড়াই ত্রিমুখী হওয়ার আভাস দিচ্ছে ভোটাররা।

 জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দেলায়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মো. খায়রুল কবীর নিয়োগীও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও বিজয় ব্যাপারে আশাবাদী।

 এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মো. আবুল হোসেন তালুকদার (লাঙ্গল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহা (চেয়ার) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসাইন সুলতান (হাতপাখা) নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

 বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর দাবি, বিগত সময়ে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। আটপাড়া কেন্দুয়ায় ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের ভোটে এ আসনে ধানের শীষই বিজয়ী হবে।

অপরদিকে দেলায়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল মনে করেন জনগণের কথা ভেবেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জনগণের রায় তাঁর পক্ষেই যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া উইং) হাফিজুল ইসলাম বলেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ আসনে দুটি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন। ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি এবং ভোটকক্ষ ৭৯৪টি (স্থায়ী ৭৩৪টি ও অস্থায়ী ৬০টি)। মোট ভোটার ৪লাখ ২০হাজার ৬৮৭জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২লাখ ১৪হাজার ৮৮৪জন, নারী ভোটার ২লাখ ৫হাজার ৭৯৪জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯জন। পোস্টাল ভোট রয়েছে ৪ হাজার ২০৯টি।

স্বাধীনতার পর থেকে হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিরা এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন ইফতেখার উদ্দিন তালুকদার।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন