সিরাজগঞ্জে ৯২৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার আওতাধীন ৬টি সংসদীয় আসনের মোট ৯২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এছাড়া ২৮১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪৬৪টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলসমৃদ্ধ তিনটি সংসদীয় আসনে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন শুরুর আগেই সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যরা ভোটের আগে ও পরে কেন্দ্র পাহারা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনের দায়িত্ব পালন করবেন।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেন জানান, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের দুর্গম চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নে ভোটের আগের দিন অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হবে। ওমরপুর ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর ৩০ জন ও বিজিবির ২০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি ১৫ থেকে ২১ সদস্যের তিনটি পুলিশ মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। ঘোরজান ও স্থল ইউনিয়নেও সেনাবাহিনীর পৃথক টিম থাকবে এবং সহায়তায় থাকবে পুলিশ। উপজেলায় মোট ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের যমুনার পশ্চিম পাড়ের ছয়টি ইউনিয়নে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী ও বিজিবির প্রায় ১০০ সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নে বিজিবির ৪০ সদস্য এবং চরগিরিস ও মনসুরনগরে সেনাবাহিনীর দুটি টিম ইতোমধ্যে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। পুলিশের মোবাইল টিমও মাঠে থাকবে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসফিকা হোসেন বলেন, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের দুর্গম সোনাতনী ইউনিয়নে ১০ ফেব্রুয়ারি ৩০ সদস্যের সেনা দল ক্যাম্প করবে। পাশাপাশি পুলিশ মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলায় মোট ১৬০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবেন ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৩৭৪ সেনা সদস্য, ৯৬ র্যাব সদস্য, ৩৬০ বিজিবি সদস্য, ১ হাজার ৯৮৪ পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ১২ হাজার আনসার। পুলিশের কাছে থাকবে অন্তত ৩০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা। দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ জানাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য অন্তত তিনটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। চরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য রাখা হয়েছে নৌকা, ঘোড়ার গাড়ি ও মোটরসাইকেল। মোতায়েনকৃত বাহিনী কেন্দ্র নিরাপত্তা, টহল, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনেও কাজ করবে।