স্মৃতিসৌধ, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন মন্ত্রীরা
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূচি অনুযায়ী, বেলা ১১টায় তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন।
এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি জিয়ারতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহকর্মীরা।
দিনের কর্মসূচির পরবর্তী অংশে বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি সরাসরি সম্প্রচার করবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি।
এছাড়া বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আরও শপথ নিয়েছেন তার মন্ত্রিসভার ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন। যেখানে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮ আসন এবং ৯ আসন পেয়েছে তাদের শরিক দলগুলো।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে বিজয়ী হলেই সরকার গঠন করা যায়। অর্থাৎ মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ আসনে জয়ী হলেই সরকার গঠন করতে পারে একটি দল। বিএনপির এই নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে বইছে স্বস্তির সুবাতাস।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে নানা কারণ। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে দলের লাখো নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার, দলের অটুট ঐক্য, দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের সীমাহীন ত্যাগ।
তবে এ বিজয়ের পেছনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো দলের কাণ্ডারী তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।
নির্বাচনী প্রচারে তার নেতৃত্ব, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন বিএনপিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান কেবল নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেননি, বরং দলকে দীর্ঘদিন পর একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ দিয়েছেন। এই রোডম্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
এসি//