ভারতীয় ধর্মগুরু-শিষ্যের বিরুদ্ধে ২০ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে জ্যোতিষ পীঠের ধর্মগুরু স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং তার শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে ২০ জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আদালত তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য স্টেটসম্যান’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
অভিযোগ উঠলেও স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দাবি করেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার বক্তব্য, মামলা হওয়াই ভালো—কারণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। তিনি আদালতের কাছে দ্রুত তদন্ত ও পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিলম্ব না করে সত্য প্রতিষ্ঠা করা উচিত। একই সঙ্গে ‘গো মাতা’ ইস্যুতে সরব থাকার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত জেলা বিচারক বিনোদ কুমার চৌরাসিয়া স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ ও স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। আদালত পুলিশকে ২০ জন নাবালকের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিস্তারিত তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছে।
এর আগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারী বিশেষ রেপ ও পোকসো আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, আশ্রমে নাবালকদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি আদালতে দুই নাবালককে হাজির করেন এবং একটি সিডি প্রমাণ হিসেবে জমা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ঝুঁসি থানায় মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩(৪) অনুসারে আদালতের শরণাপন্ন হন এবং মামলাটি গ্রহণের আবেদন করেন। ভুক্তভোগী নাবালকদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর আদালত রায় সংরক্ষণ করে এবং পরবর্তীতে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়।
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসি//