রাজনীতি

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বক্তব্য আমার নয়: তনি

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো স্মারকলিপি গণমাধ্যমে পাঠের ঘটনাকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ (সিসিএস)–এর সদস্যসচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। তিনি জানান, সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলের অনুরোধেই তিনি ওই স্মারকলিপি পাঠ করেছিলেন।

গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তনি স্মারকলিপিটি পাঠ করেন। সে সময় তাকে সিসিএসের সদস্যসচিব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং আহ্বায়ক হিসেবে নীলা ইসরাফিলের নাম উল্লেখ করা হয়।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেয়া এক লিখিত বিবৃতিতে তনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণে নীলা ইসরাফিল উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার সরাসরি অনুরোধ ও স্বাক্ষরিত লিখিত স্মারকলিপির ভিত্তিতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যটি পাঠ করেন।

বিবৃতিতে তনি বলেন, স্মারকলিপিটি সম্পূর্ণরূপে নীলা ইসরাফিল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তিনি এর রচয়িতা নন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো চিঠি দেননি বা অভিযোগ দায়ের করেননি বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্য পাঠের একটি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন।

সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। তার দাবি, তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠিতভাবে অনলাইন বুলিং, ট্রলিং, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত সুনামকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

তনি জানান, যারা তাকে বা তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি সংগঠিত অনলাইন হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় প্রযোজ্য সাইবার আইনসহ অন্যান্য আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তনি।

হুমকিদাতা ও বিরূপ মন্তব্যকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকতে পারে; তবে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কার্যক্রম বন্ধ না হলে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন