কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
নরসিংদীতে কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি নূরাকে গ্রেফতারে থানার পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান চালাচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহিষাশুড়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩০) ও মো. গাফফার (৩৭)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বখাটে নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা হতো। ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নেয়।পরিবারের অভিযোগ তখন তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। তবে পরিবারটি বিচার পায়নি। আহম্মদ আলী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কিশোরীকে এলাকা ছাড়তে বলে। এদিকে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় নূরাসহ সংশ্লিষ্ট তরুণরা ক্ষুব্ধ হয়।
এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি সরিষা ক্ষেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
আই/এ