একই সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত ও তেহরানকে ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের দশম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষ নমনীয় ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তেহরান আলোচনার জন্য আগ্রহী বলে খবর পেয়েছেন। তবে ইরানের নতুন শীর্ষ নেতৃত্ব এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার কঠোর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
ফক্স নিউজের চিফ ফরেন করেসপন্ডেন্ট ট্রে ইয়ংস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “উপযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে আমি ইরানের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হতে পারি।”
তবে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনি–এর নির্বাচনের বিষয়ে।
ট্রাম্পের মতে, মোজতবা খামেনি একজন শান্তিপ্রিয় নেতা হতে পারবেন না এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলেকে বেছে নেয়া তার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে ফলাফল দিচ্ছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম ১০ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের ৫০টিরও বেশি জাহাজ ও সাবমেরিন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংসকৃত লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে আইআরজিসি’র সদর দপ্তর, গোয়েন্দা কেন্দ্র, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন তৈরির কারখানা এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
তবে ট্রাম্প আশ্চর্য হয়েছেন যে, ইরান এখনও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যদি ইরান তেল সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর বর্তমানের চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করবে যার ফলে একটি জাতি হিসেবে ইরানকে পুনরায় গড়ে তোলা অসম্ভব হবে। যদিও তিনি যোগ করেছেন, তিনি মনেপ্রাণে প্রার্থনা করেন যেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে আলোচনার ইঙ্গিত, অন্যদিকে দেশ ধ্বংসের হুমকি—মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একদিকে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের দরজা খোলা রাখছেন, অন্যদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইছেন।
এসি//