আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর সবসময়ই তাদের ওপর বোমা ফেলতে হয়: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে টানা পঞ্চম সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানের তেল ও কৌশলগত স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের তেল সম্পদ দখলেও যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ব্যাপারে কিছুই বলা যায় না, কারণ আমরা তাদের সাথে আলোচনা করি, আর তারপর সবসময়ই তাদের ওপর বোমা ফেলতে হয়।”

রোববার (২৯ মার্চ ) ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তেল দখল করাই হবে তার পছন্দ।”

তিনি এ সম্ভাবনাকে বছরের শুরুতে ভেনিজুয়েলায় চালানো মার্কিন অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর দেশটির তেল শিল্প কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

খার্গ দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছে। তবে একটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, এমন অভিযান “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ” হতে পারে, কারণ তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সহজেই ওই দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম।

একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নির্বোধ লোক বলে: ‘আপনি এটা কেন করছেন?’ কিন্তু ওরা তো নির্বোধ লোক।”

তিনি আরও বলেন, “হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প আছে,” এবং “এর মানে এও হবে যে, আমাদের সেখানে [খার্গ দ্বীপে] কিছু সময়ের জন্য থাকতে হবে।”

এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরান- এই ত্রিপক্ষীয় উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। এশীয় সময় অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের মে মাসের ফিউচার ৩.২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬.১২ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ফিউচার ৩.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২.৯৬ ডলারে।

অন্যদিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে পেন্টাগন ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রায় ৩,৫০০ মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সদস্যকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক দিকেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন বার্তা। ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ থামাতে ইরানি আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে “মিনতি” করছে, যদিও Iran সরাসরি কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছে। পরে তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খুব ভালো বৈঠক” হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, যেখানে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর কঠোর সীমা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। তেহরান প্রকাশ্যে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, “তারা আমাদের বেশিরভাগ দফাতেই সম্মতি দিয়েছে... তারা এই পরিকল্পনায় আমাদের সঙ্গে একমত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্মানের নিদর্শনস্বরূপ” ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী প্রায় ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

সবশেষে ট্রাম্প বলেন, “আমি শুধু এটুকুই বলব যে, ওই আলোচনায় আমরা অত্যন্ত ভালো করছি। কিন্তু ইরানের ব্যাপারে কিছুই বলা যায় না, কারণ আমরা তাদের সাথে আলোচনা করি, আর তারপর সবসময়ই তাদের ওপর বোমা ফেলতে হয়।”

 

সম্ভাব্য স্থলবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “অনেক বিকল্প রয়েছে” এবং ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক পদক্ষেপগুলো “সত্যিকার অর্থেই একটি শাসন পরিবর্তনের” সমতুল্য বলে উল্লেখ করেন।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন