আন্তর্জাতিক

যে শর্তে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি, শুক্রবার শুরু আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা যখন চরমে, ঠিক সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি হঠাৎ করে নতুন মোড় নেয়। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। এতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের ঝুঁকি কিছুটা কমলেও পুরো পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই শর্তহীন নয়।

যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শর্ত পূরণ হলেই কেবল ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া বার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর বিশেষ অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা এই সাময়িক সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

তার মতে, এই প্রস্তাবগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় উঠে এসেছে।

শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চলমান এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদ-এ সরাসরি আলোচনার আয়োজন করা হবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শাহবাজ শরিফ এই পদক্ষেপকে ‘দূরদর্শী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তার মতে, এই উদ্যোগ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুও যুক্ত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইসরাইলের সমর্থনের খবর প্রকাশিত হলেও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এমনকি ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর ভেতরেও হামলা স্থগিতের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কূটনৈতিকভাবে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও এর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়নের ওপর।

একই সঙ্গে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনাই নির্ধারণ করবে এই বিরতি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তিতে রূপ নেয় কি না।

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন