বিশ্ববাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর খবরে বিশ্ববাজারে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেলের দাম কিছুটা কমলেও উল্টো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের বাজার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈশ্বিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭৫৫ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রুপা ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে দাম সামান্য কমলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ঘোষণার পর বাজারে আবার গতি ফিরে আসে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, যুদ্ধবিরতির কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। গোল্ড ফিউচারেও প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তা ৪৭৭২ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হচ্ছে। তবে এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। ইরান কিংবা ইসরাইল শেষ পর্যন্ত এতে সম্মতি দেবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা দেখছেন।
মারেক্স-এর বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার জানান, যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, তবে তেলের দাম ও ডলারের মান একসঙ্গে বাড়তে পারে, যা স্বর্ণবাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
এদিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড মনে করছে, বর্তমান অস্থিরতার মধ্যেও স্বর্ণের দাম শিগগিরই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
আরও একদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ-এর পরবর্তী প্রধান হিসেবে মনোনীত কেভিন ওয়ারশ জানিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের পাশাপাশি ডলারের প্রতিও ঝুঁকছেন, তবে বর্তমানে ডলার কিছুটা বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
এসি//