কলেজ শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার
রাজশাহীর দূর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও শিক্ষিকাকে স্যান্ডেল দিয়ে পেটানোর ঘটনায় জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজশাহী জেলাধীন দূর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আকবর আলী বলেন, বহিষ্কারের বিষয়ে তার জানা নেই। সেদিন এলাকার মুরব্বিরা দাওয়াত পত্র নিয়ে গেছিল। এ সময় ম্যাডাম বলেন- আপনারা কি জন্য এখানে। আপনারা টাকা নিতে আসছেন নাকি? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,গতকাল দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। নানা বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের ওপরে হামলা চালান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি শুধু শিক্ষকদের ওপরে হামলা চালিয়েই তারা ক্ষান্ত হননি, কলেজের অফিসকক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় আহতরা হলেন, কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, নারী প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ কলেজের আরও দুই কর্মচারী।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি সরকারি আদেশে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার কাছে বিভিন্ন সময় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল বিএনপির নেতাকর্মী। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভালোভাবে চেনেন না।
আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রায় কলেজে এসে হিসাব-নিকাশ চাইতেন। আসলে তারা চাঁদার দাবিতে আসতো। অধ্যক্ষ মহোদয় নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। বিধায় কোনও পক্ষকেই সেইভাবে গ্রহণ করতেন না। এটাই অপরাধ ছিল অধ্যক্ষের। আর একজন শিক্ষক বা সহকর্মী হিসেবে অধ্যক্ষকের পাশে থাকাটাই চিল তার অপরাধ। তিনি এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা হয়েও কেন অধ্যক্ষ মহোদয়ের পক্ষ নিয়েছি এটাও তার একটা অপরাধ।
এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আই/এ