ইরানকে টোল দিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে শিপিং কোম্পানি: যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা অর্থ পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (০১ মে) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অধীন ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (অফাক) এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে।
অফাক জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলোর জন্য ইরানের সরকারি সংস্থাগুলোকে অর্থ প্রদান নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও যদি এ ধরনের লেনদেনে অংশ নেয়, তাহলেও তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানের বন্দর ও শিপিং খাত আগে থেকেই একাধিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে এসব খাত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশ নেওয়া জাহাজ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করে। এ পরিস্থিতিতে ইরান অভিযোগ করে, তাদের বন্দরে যাওয়া-আসা করা জাহাজ আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সমুদ্র দস্যুতা’ চালাচ্ছে।
তেহরানের দাবি, প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল নেওয়া হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার হামিদরেজা হাজি বাবাবেই বলেন, এই খাত থেকে আদায় হওয়া প্রথম অর্থ ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে। তবে কত টাকা আদায় হয়েছে বা কারা অর্থ পরিশোধ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অফাকের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু নগদ অর্থ নয়—ডিজিটাল সম্পদ, পণ্য বিনিময়, অনানুষ্ঠানিক আর্থিক লেনদেন কিংবা কিছু দাতব্য অনুদানও নিষিদ্ধ লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একইদিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের তেল বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য মুদ্রায় রূপান্তরে সহায়তা করছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের অর্থায়নের পথ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে যারা সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘাতের পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, নৌ অবরোধ শুরুর পর অন্তত ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সংকটের প্রভাব পড়েছে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, বিকল্প দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হওয়ায় ত্রাণ পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে। বিশেষ করে সুদানে সহায়তা পৌঁছাতে এখন জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। যদিও তেহরান শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
এমএ//