আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক চুক্তি সই, শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে শর্ত: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি ইতোমধ্যে সই হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তির বিস্তারিত শর্ত অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কানাডায় জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প এ দাবি করেন। তিনি বলেন, চুক্তির কাজ শেষ হয়েছে এবং সব পক্ষ এতে সই করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানায়, আগামী শুক্রবার জেনেভায় চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে। একই দিন হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

তারা আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা জব্দ সম্পদ ছাড়ের মতো সুবিধা পেতে হলে তেহরানকে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি সংক্ষিপ্ত একটি কাঠামোগত নথি। প্রায় দেড় পৃষ্ঠার এই নথিতে মূলনীতিগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্তারিত বিষয় পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, চুক্তির শুরুতেই ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে। এর আওতায় ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীতে অর্থায়ন বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তেহরানকে যাচাইযোগ্যভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন।

ট্রাম্পের দাবি, এটি একটি শক্তিশালী দলিল। তিনি চান, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

সমঝোতার অংশ হিসেবে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে স্থায়ী চুক্তির শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাবে।

আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, সমঝোতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ও রয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির কাঠামোর অংশ হলেও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির শর্ত নয়। তাদের ভাষ্য, ইসরাইল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিরাপত্তা প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরাইল নিজ অবস্থান ধরে রাখবে। যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার স্বাধীনতাও ইসরাইলের থাকবে বলে জানান তিনি।

নেতানিয়াহু আবারও বলেন, চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান বন্ধ হয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের অবিশ্বাস এখনো গভীর। এই সমঝোতা উত্তেজনা কমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। তবে তেহরান যাচাইযোগ্যভাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনলে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন