‘খুব ইচ্ছে ছিল শেষবার তার সাথে কথা বলব’ স্কুলছাত্রীর মরদেহের পাশে চিরকুট
যশোরের শার্শায় স্কুলছাত্রী লামিয়া খাতুনের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। লামিয়া শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে এবং বুরুজবাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, লামিয়ার বাবা বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। লামিয়া তার মায়ের সাথে কুমিল্লা বসবাস করছিল। গতকাল সকালে লামিয়ার মা শিখা আক্তার শিরিন তাকে বাড়িতে একা রেখে বিশেষ প্রয়োজনে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সন্ধ্যার দিকে মেয়েকে ফোনে না পেয়ে তিনি লামিয়ার চাচিকে বাড়িতে গিয়ে দেখার অনুরোধ করেন। চাচি বাড়িতে গিয়ে শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে মরদেহটি নিচে নামান।
মরদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে দেখা যায় লামিয়া আত্মহত্যার জন্য কাউকে দায়ী করেনি। সেখানে লেখা ছিলো, ‘আমারে মাফ করো। আমি একজন ভালো মেয়ে হতে পারিনি, এখন এটি তোমার হাতে মানে আমি আর নাই। কারোর প্রতি কোনো অভিযোগ নাই, আমার মা তো আমার জন্য কম করেনি, সে অনেক করেছে।’
চিরকুটে আরও লেখা ছিল, ‘তবে আমার আব্বু, সে কেমন বাপ, সে আমার সাথে কথাও বলেনি, খুব ইচ্ছে ছিল শেষবার তার সাথে কথা বলব। কিন্তু তা আর হলো না। সবাই আমার জন্য দোয়া করো। আমি আমার মা আর নানাকে অনেক ভালোবাসি। সবাই ভালো থেকো, আল্লাহ হাফেজ।’
(ওসি) মারুফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে শার্শা থানার এসআই শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ দাফনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
আই/এ