যেভাবে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ বলছে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত ও পেশাদার খুনিরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (০৫ মে) রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলার সময় গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ ও তার গাড়িচালক। ঘটনার বিস্তারিত জানতে মধ্যমগ্রাম ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আদিত্য নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “চন্দ্রনাথের গাড়িটি আমাকে ক্রস করে সামনে চলে যায়। আমি বারাসাতের দিকে যাচ্ছিলাম। আমার গাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে ছিল তাদের গাড়ি। আমার গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার, আর তাদের গাড়ির গতি ছিল প্রায় ৬০ কিলোমিটার। হঠাৎ দেখি গাড়ির গতি কমে যায়। পরে বুঝতে পারি সামনে আরেকটি গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছিল। এরপর একটি মোটরসাইকেলে এসে ওই গাড়ির পাশে যায়। মোটরসাইকেলে থাকা একজন ব্যক্তি গাড়িতে হাত রেখে ব্যালেন্স করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। হামলাকারীর মাথায় হেলমেট থাকায় মুখ দেখতে পাইনি।”
এদিকে পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, হামলায় মোট তিনজন অংশ নেয়। একজন একটি গাড়ি চালিয়ে আসে এবং অন্য দুজন মোটরসাইকেলে ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির সামনে আড়াআড়িভাবে একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। এতে গাড়ি থামাতে বাধ্য হন চালক। এরপর মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা গুলি চালায়।
পুলিশ জানায়, চন্দ্রনাথ রথকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতেই জানালার কাচে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। কাচ ভেদ করে পরপর গুলি চালানো হয় বলে। এতে চন্দ্রনাথ রথের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। অপরদিকে গুলিতে আহত হন গাড়িচালকও।
পুলিশ আরও জানায়, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বরপ্লেটটি ভুয়া ছিল। অন্য একটি গাড়ির নম্বর নকল করে এই নম্বরপ্লেট তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
তথ্যসূত্র: এপিবি নিউজ
এমএ//