ইরানের প্রস্তাব ‘আবর্জনা’, যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশা নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। একইসঙ্গে তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবকে তিনি ‘আবর্জনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “তারা (ইরান) যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সেটা পড়ে যুদ্ধবিরতির অবস্থা এখন সবচেয়ে দুর্বল মনে হচ্ছে। আমি পুরোটা পড়াও শেষ করিনি।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করে পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের কয়েকটি শর্ত তুলে ধরে।
তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের অবসান; হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি; যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ; এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কারণেই আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং এপ্রিলের ৭ তারিখ থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতিও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বেড়েছে। মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। অবরোধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ রপ্তানি কমাতে বাধ্য হয়েছে।
রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেল উৎপাদন দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা চীনে ইরানি তেল পাঠাতে সহায়তা করছে এবং এর মাধ্যমে তেহরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে অর্থ জোগাচ্ছে।
একইসঙ্গে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যু অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমএ//