লাইফস্টাইল

৫০-এও প্রীতির ত্বকে অষ্টাদশীর জেল্লা!

সৌন্দর্যের আয়নায় বয়স যেন চিরন্তন এক লুকোচুরির গল্প। কেউ সময়কে থামাতে ছুটছেন দামি প্রসাধনীর পেছনে, কেউ বা আশ্রয় নিচ্ছেন বোটক্স কিংবা জটিল সৌন্দর্যচর্চায়। অথচ এই ঝলমলে দৌড়ে একেবারেই ভিন্ন পথে হাঁটছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। পঞ্চাশ পেরিয়েও যার মুখে ধরা পড়ে অনেক কম বয়সী তারুণ্যের আভা, সেই প্রীতির সৌন্দর্য রহস্য কিন্তু অবাক করার মতোই সহজ।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এক অনুরাগীর প্রশ্নের জবাবে নিজের ত্বকচর্চার গোপন কথা প্রকাশ করেন তিনি। প্রশ্ন ছিল—৫১ বছর বয়সেও কীভাবে তাকে ৩০ বছরের মতো তরুণ দেখায়? এর পেছনে কি বোটক্স, বিশেষ চিকিৎসা বা কোলাজেন ধরে রাখার জটিল পদ্ধতি রয়েছে?

প্রীতির উত্তর ছিল একেবারেই সরল।

তিনি জানান, বোটক্স বা গালভারি ধরনের কোনো কৃত্রিম চিকিৎসা করান না। ত্বকের জন্য কঠোর রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী কিংবা রেটিনলের মতো জটিল উপাদানের প্রতিও তার নির্ভরতা নেই। বরং যতটা সম্ভব সহজ, কোমল এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপায়েই তিনি নিজের যত্ন নেন।

অভিনেত্রীর ভাষায়, তিনি খুব কম মেকআপ ব্যবহার করেন এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভোলেন না। ফেসওয়াশ বা ফেসক্রিম বেছে নেয়ার ক্ষেত্রেও তার পছন্দ এমন পণ্য, যা কড়া রাসায়নিকমুক্ত—অন্তত ত্বকের ক্ষতি করবে না।

তবে শুধু বাইরের যত্নেই সীমাবদ্ধ নন প্রীতি। তার বিশ্বাস, ত্বকের প্রকৃত সৌন্দর্য আসে শরীরের ভেতরকার সুস্থতা থেকে। আর সেই কারণেই জীবনযাপনের কিছু মৌলিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলেন তিনি।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ও টক্সিনমুক্ত খাবারকে গুরুত্ব দেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তবে শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়—শরীরের পেশি, হাড় ও সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য। পর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষেত্রেও তিনি আপসহীন; প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

ধূমপান বা মদ্যপান থেকে দূরে থাকা, প্রদাহ বাড়াতে পারে এমন খাবার এড়িয়ে চলা এবং মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াও তার জীবনযাপনের বড় অংশ। প্রীতির মতে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শরীর ও ত্বকের ওপর।

সব মিলিয়ে বয়সকে আটকে রাখার জন্য প্রীতির দর্শন খুবই সাধারণ—পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং মন থেকে সুখী থাকার চেষ্টা। তার কথায়, তারুণ্য ধরে রাখার আসল রহস্য কোনো জটিল চিকিৎসায় নয়, বরং বেসিক’ এই তিনটি অভ্যাসেই।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন