দেশজুড়ে

নবজাতককে হত্যার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত আটক

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ৩৭দিন বয়সী নবজাতককে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্ট অভিযোগ ওঠেছে।এ ঘটনায় আব্দুর রউফকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে কেন্দুয়ার কৈজানি গুদারাঘাট এলাকার এ ঘটনা ঘটে। আজ (১৮ মে) আব্দুর রউফকে আটক করে পুলিশ। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানায়, সিরাজগঞ্জের ওই নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ে মদন উপজেলার নায়েকপুর গ্রামের রিপন মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে গত শুক্রবার তার স্বামী তালাক দেয়। ওই নারীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ৩৭দিন বয়সী শিশুসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

পরে  বাবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে কেন্দুয়ার তাম্বুলিপাড়ার বাজারে আব্দুর রউফের দোকানে অপেক্ষা করেন। রাত হয়ে গেলে রউফ তার বাড়ি শ্রীরামপাশায় নিজের স্ত্রীর সাথে থাকার প্রস্তাব দেন। উপায় না দেখে তার সাথে যেতে রাজি হন। পথে রউফ তাকে নদীর কাছে পাটখেতে নিয়ে যান।

সেখানে দা বের করে শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রউফ। একপর্যায়ে তিনি সন্তানকে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যান। প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পার হয়ে সাজিউরা বাজারে গিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। রাত ৯টার দিকে নদীর তীরবর্তী পাটখেতের একটি ড্রেন থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।  ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত রউফের দোকানে ভাঙচুর চালায়।

ভুক্তভোগী নারী জানান,তালাকের পরে আইনি সহায়তার জন্য তিনি মদন থানায় গেলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় বাবার বাড়ি যেতে রওনা হওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে

কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কাশেম মিয়া জানান, রাতে ওই নারী সাজিউরা বাজারে এসে চিৎকার করার সময় তারা কয়েকজন সেখানে বসা ছিলেন। তার ডাক চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজনকে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি। এর কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি

 (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ জানান, সোমবার ভোরে মদন থানা পুলিশের সহযোগীতায় অভিযুক্ত আব্দুর রউফকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল মদন থানা এলাকার হওয়ায় ওই থানায় মামলা হবে। ভুক্তভোগী নারী ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ আছে। তাদেরকেও মদন থানায় পাঠানো হবে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত আব্দুর রউফকে আটক করে মদন থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাস্থল কোন এলাকা তা নির্ণয় হলে সেখানেই মামলা রুজু হবে। তবে ওই নারী কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন