দেশজুড়ে

ধর্ষণের পর শিশুকে গোসল করিয়ে বাড়ির সামনে রেখে গেল ধর্ষক!

ছবি: প্রতীকী ছবি

বাড়ির উঠোনে আর দশটা শিশুর মতোই মেতে ছিল চঞ্চল খেলায়। কে জানত, এক টুকরো চিপসের লোভ দেখিয়ে সেই নিষ্পাপ শৈশবকে এমন ভয়ঙ্কর এক অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে প্রতিবেশী এক নরপশু! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৯ বছরের এক অবুঝ মাদরাসাছাত্রীকে পাশবিক নির্যাতনের এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরের এই নির্মম ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওই শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রতিবেশী সহিদ মিয়া এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটি সরাইল উপজেলার তেলিকান্দা উত্তর পাড়া গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর সন্তান এবং সে স্থানীয় একটি মাদরাসার মক্তব বিভাগে পড়াশোনা করে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী সহিদ মিয়া তাকে চিপস কিনে দেয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

শুধু তাই নয়, ঘটনাটি কাউকে বললে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকিও দেয় অভিযুক্ত সহিদ। পরবর্তীতে অপরাধ আড়াল করতে সহিদ নিজেই শিশুটিকে নদীতে নিয়ে গোসল করায় এবং বাড়ির সামনে এনে রেখে যায়। একপর্যায়ে শিশুটি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে সব খুলে বলে। এরপরই স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে দ্রুত মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পেয়েই অভিযুক্তকে ধরার জন্য পুলিশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত এজাহার জমা পড়েনি, তবে ঘটনার ভয়াবহতা ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী জানিয়েছেন, বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটির প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই তার শারীরিক অবস্থার প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন