আন্তর্জাতিক

মসজিদে নামিরাহতে আরাফার খুতবা দিলেন শায়খ আলী আল-হুদাইফি

পবিত্র হজ পালন উপলক্ষে আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা হতে আরাফার খুতবা প্রদান করেছেন প্রখ্যাত ইসলামিক আলেম শায়খ আলী আল-হুদাইফি। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটার পর দেয়া এই খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর প্রতি তাকওয়া অবলম্বন, আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। 

খুতবায় শায়খ আল-হুদাইফি বলেন, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে তার কর্মের হিসাব দিতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সেদিন হবে ভয়াবহ বাস্তবতার দিন, যখন সময় থেমে যাবে এবং মানুষের সব আমলের জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি মুসলমানদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আল্লাহভীতি অর্জন এবং পরকালের জবাবদিহিতার বিষয়টি সবসময় স্মরণে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাওহিদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আল্লাহর সঙ্গে কোনো শরিক করা যাবে না এবং সব ইবাদত একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হতে হবে।

এদিকে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব আরাফাতের ময়দানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হাজি সমবেত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের প্রান্তরে ইবাদত, জিকির ও দোয়ায় মগ্ন রয়েছেন। পুরো এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থান বা ‘উকুফে আরাফা’কে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রসঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।”

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি রহমত, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সময়।

আরাফাতের দিনটি ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজের স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। সেই সময় জাবালে রহমতে তিনি ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেন। ওই ভাষণে ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবাধিকার এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের মর্যাদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

আরাফাতে যাওয়ার আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন। সেখানে অবস্থান করে তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপের জন্য নিজেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন।

চলতি বছর হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র স্থানগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও জরুরি সহায়তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং রাতযাপন করবেন। পরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিও সেখানে সম্পন্ন হবে।

 

সূত্র: সামা টিভি

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন